বাগদী ও মতুয়া কালচারাল বোর্ডের ঘোষনা মুখ্যমন্ত্রীর, বরাদ্দ করা হল অর্থও
দি নিউজ লায়ন; সোমবারই বাঁকুড়ার খাতড়ায় সিধু কানহু স্টেডিয়ামে সরকারি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাউরী কালচারাল বোর্ড ঘোষনা করে পাঁচ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ আরেকধাপ এগিয়ে বাঁকুড়ার রবীন্দ্রভবনে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে পৃথক ভাবে বাগদী ও মতুয়া কালচারাল ওয়েলফেয়ার বোর্ডের ঘোষনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। নবগঠিত ওই দুই বোর্ডের জন্য মুখ্যমন্ত্রী বরাদ্দ করলেন ১৫ কোটি টাকা। আলু ও পেঁয়াজের দাম নিয়ে এদিনের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে কেন্দ্রের সরকারকে একহাত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তাঁর দাবি, আলু ও পেঁয়াজ লুঠ করছে কেন্দ্র। আমরা এ রাজ্যে সরকারিভাবে আলু কিনে রেখেছিলাম। সেই আলুই এখন ২৫ টাকা কিলো দরে বিক্রি করছে রাজ্য সরকার। কিন্তু ক্রমশ মজুত আলুর পরিমাণ কমে আসছে। এই অবস্থায় কেন্দ্র আলু, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সর্বনাশ হয়ে যাবে মানুষের। কেন্দ্র আলু ও পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রন করতে না পারলে তা আমাদের হাতে ছেড়ে দিক। এর পাশাপাশি এদিনের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত সরকারি দফতরকে নির্দেশ দিলেন, কাজ ফেলে রাখা চলবে না। দ্রুত শেষ করতে হবে কাজ।
দি নিউজ লায়ন ; সরকারি কাজে আরো গতি আনতে হবে। এদিন রবীন্দ্রভবনে প্রশাসনিক বৈঠকে বাংলা সহায়তা কেন্দ্র নিয়ে আলোচনা শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগে তথ্যমিত্র কেন্দ্রগুলি মানুষকে পরিসেবা দিতে অনেক টাকা নিত। আমরা সেকারনেই বাংলা সহায়তা কেন্দ্র তৈরী করেছি। পঞ্চায়েত, ও ব্লক সহ বিভিন্ন জায়গায় গঠন করা হয়েছে এই বাংলা সহায়তা কেন্দ্র। এই কেন্দ্রগুলি থেকে সরকারি প্রকল্পে আবেদন সহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পাচ্ছেন রাজ্যের মানুষ। এদিনের বৈঠক থেকে পানীয় জল প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়নের উপর জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি অনেক জায়গায় রাস্তার ধারে পাইপ পড়ে থাকতে দেখছি। এভাবে পাইপ পড়ে থাকলে হবে না।
সেগুলি মাটিতে পুঁতে দ্রুত জল সরবরাহ চালু করতে হবে। গ্রামীন রাস্তায় ভারী গাড়ি চলাচল নিয়ে এদিন পুলিশকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে রাজ্যে যা রাস্তা হয়েছিল আমরা গত আট বছরে তার কয়েকগুণ রাস্তা পাকা ও মেরামত করে দিয়েছি। কিন্তু ভারী লরি চলাচলের ফলে সেই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এটা বরদাস্ত করা হবে না। গ্রামীন ছোট রাস্তাগুলিতে ভারি লরি ও ট্রাক চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। শুখা মরসুমে বৃক্ষরোপণ প্রকল্প স্থগিত রেখে মানুষের পানীয় জল ও চাষের জল সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
করোনা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, করোনার চিকিৎসা খাতে ইতিমধ্যেই চার হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে রাজ্য সরকার। এরমধ্যে কেন্দ্র থেকে পেয়েছি মাত্র ১৯৩ কোটি টাকা। জিএসটি বাবদ কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের বকেয়া রয়েছে প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা। সে টাকা কেন্দ্র দিচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে আর বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া সম্ভব নয়। তাবলে রাজ্যে উন্নয়নের কাজ থেমে থাকবে না বলে এদিনের বৈঠক থেকে স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Post a Comment